বজরংবলীর প্রতি তুলসীদাসের অমর নিবেদন। সম্পূর্ণ পাঠ, প্রতিটি চৌপাঈয়ের সরল বাংলা অর্থ, পাঠের সঠিক পদ্ধতি এবং আধুনিক জীবনে এর আধ্যাত্মিক উপকারিতা — সব একসাথে, শুধুমাত্র Reflectu.in-এ।
হনুমান চালিসা শুধু একটি স্তোত্র নয় — এটি ভয়, দ্বিধা ও নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে এক আধ্যাত্মিক ঢাল। ষোড়শ শতাব্দীতে গোস্বামী তুলসীদাস কর্তৃক রচিত এই ৪০টি চৌপাঈ আজও মিলিয়ন ভক্তের দৈনিক প্রার্থনার অংশ। Reflectu.in-এ আমরা সাজিয়েছি সম্পূর্ণ হনুমান চালিসা বাংলা — প্রতিটি চৌপাঈয়ের পাশে সহজ বাংলা অর্থ, পাঠের পদ্ধতি, আধুনিক জীবনে এর প্রয়োগ ও প্রিন্ট-রেডি PDF। প্রতিদিন কয়েক মিনিটের পাঠই আপনার মনে সাহস ও স্থিরতা ফিরিয়ে দিতে পারে।
চারটি অংশে বিন্যস্ত — প্রারম্ভিক দোহা, ধ্যানম্, ৪০টি চৌপাঈ এবং সমাপ্তি দোহা।
| শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি ॥ বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দায়ক ফলচারি ॥ |
| বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার ॥ বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ॥ |
| গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্ ॥ রামায়ণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্ ॥ |
| যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্ । ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্ ॥ |
| জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর। জয় কপিস তিহু লোক উজাগর॥১॥ |
| রাম দূত অতুলিত বল ধামা। অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা॥২॥ |
| মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি॥৩॥ |
| কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা। কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা॥৪॥ |
| হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ। কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে॥৫॥ |
| শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন। তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন॥৬॥ |
| বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর। রাম কাজ করিবে কো আতুর॥৭॥ |
| প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া। রামলখন সীতা মন বসিয়া॥৮॥ |
| সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা। বিকট রূপধরি লংক জরাবা॥৯॥ |
| ভীম রূপধরি অসুর সংহারে। রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে॥১০॥ |
| লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে। শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে॥১১॥ |
| রঘুপতি কীন্হী বহুত বদায়ী। তুম মম প্রিয ভরত সম ভায়ি॥১২॥ |
| সহস্র বদন তুম্হরো য়শগাবৈ। অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈ॥১৩॥ |
| সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা। নারদ শারদ সহিত অহীশা॥১৪॥ |
| য়ম কুবের দিগপাল জহাং তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে॥১৫॥ |
| তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা। রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা॥১৬॥ |
| তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা। লংকেশ্বর ভয় সব জগ জানা॥১৭॥ |
| য়ুগ সহস্র য়োজন পর ভানূ। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥১৮॥ |
| প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী। জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী॥১৯॥ |
| দুর্গম কাজ জগত কে জেতে। সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে॥২০॥ |
| রাম দুয়ারে তুম রখবারে। হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥২১॥ |
| সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা। তুম রক্ষক কাহূ কো ডরনা॥২২॥ |
| আপন তেজ সম্হারো আপৈ। তিনোং লোক হাংক তে কাংপৈ॥২৩॥ |
| ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥২৪॥ |
| নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরন্তর হনুমত বীরা॥২৫॥ |
| সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥২৬॥ |
| সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিনকে কাজ সকল তুম সাজা॥২৭॥ |
| ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ। সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ॥২৮॥ |
| চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা। হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা॥২৯॥ |
| সাধু সন্ত কে তুম রখবারে। অসুর নিকংদন রাম দুলারে॥৩০॥ |
| অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা। অস বর দীন্ জানকী মাতা॥৩১॥ |
| রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা। সদা রহো রঘুপতি কে দাসা॥৩২॥ |
| তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ। জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥৩৩॥ |
| অন্ত কাল রঘুপতি পুরযায়ী। জহান জনম হরিভক্ত কহায়ী॥৩৪॥ |
| ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে। হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে॥৩৫॥ |
| সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা। জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা॥৩৬॥ |
| জয় জয় জয় হনুমান গোসায়ী। কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী॥৩৭॥ |
| যো শত বার পাঠ কর কোয়ী। ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী॥৩৮॥ |
| জো য়াহ পড়ে হনুমান চালীসা। হোয়ে সিদ্ধি সাখী গৌরীশা॥৩৯॥ |
| তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা॥৪০॥ |
| পবন তনয় সংকট হরণ – মংগল মূরতি রূপ্। রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয় বসহু সুরভূপ্॥ |
সিয়াবর রামচংদ্রকী জয়। পবনসুত হনুমানকী জয়। বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয়। 🙏
| পবন তনয় সংকট হরণ – মংগল মূরতি রূপ্। রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয় বসহু সুরভূপ্॥ |
হে পবনপুত্র, তুমি সব সংকট দূর করো এবং মঙ্গলের মূর্তি। শ্রীরাম, লক্ষণ ও সীতার সঙ্গে তুমি আমার হৃদয়ে চিরকাল অধিষ্ঠান করো। |
| গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্। | বিশাল সমুদ্রকে গরুর খুরের ছাপের মতো তুচ্ছ করে, রাক্ষসদের মশার মতো নিঃশেষ করেছ। |
| রামায়ণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্॥ | রামায়ণ রূপ মহামালার অমূল্য রত্ন বায়ুপুত্র হনুমানকে আমি প্রণাম করি। |
| যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্। | যেখানেই রঘুনাথের কীর্তন হয়, সেখানেই আমি হাতজোড় করে নত মস্তকে উপস্থিত হই। |
| ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্॥ | ভক্তির অশ্রুতে যাঁর চোখ ভরা, সেই রাক্ষসবিনাশী হনুমানকে আমি নমস্কার করি। |
| জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর। জয় কপিস তিহু লোক উজাগর॥১॥ | জ্ঞান ও গুণের সাগর হনুমানের জয়। তিন লোকের জাগরণকারী বানরশ্রেষ্ঠের জয়। |
| রাম দূত অতুলিত বল ধামা। অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা॥২॥ | রামের দূত, অতুলনীয় শক্তির আধার; অঞ্জনীর পুত্র, বায়ুপুত্র নামে খ্যাত। |
| মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি॥৩॥ | মহাবীর পরাক্রমশালী বজরঙ্গী; কুমতি নাশ করে সুমতির সঙ্গী হও। |
| কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা। কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা॥৪॥ | স্বর্ণবর্ণ দেহ, সুন্দর বসন; কানে কুণ্ডল, কুঁচকানো কেশ। |
| হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ। কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে॥৫॥ | হাতে বজ্র ও ধ্বজা শোভা পায়; কাঁধে মুঞ্জের পবিত্র সুতো সাজে। |
| শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন। তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন॥৬॥ | শঙ্করের অংশ, কেশরীর নন্দন; তেজ-প্রতাপে জগৎ বন্দিত। |
| বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর। রাম কাজ করিবে কো আতুর॥৭॥ | বিদ্বান, গুণী, অতি চতুর; রামের কাজে সর্বদা ব্যাকুল। |
| প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া। রামলখন সীতা মন বসিয়া॥৮॥ | প্রভুর চরিত্র শ্রবণে রসিক; রাম-লক্ষণ-সীতা তার মনে অধিষ্ঠিত। |
| সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা। বিকট রূপধরি লংক জরাবা॥৯॥ | সূক্ষ্ম রূপে সীতাকে দর্শন দিয়েছ; ভয়ংকর রূপে লঙ্কা দগ্ধ করেছ। |
| ভীম রূপধরি অসুর সংহারে। রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে॥১০॥ | ভীম রূপ ধরে অসুর সংহার করো; রামচন্দ্রের সব কাজ সম্পন্ন করো। |
| লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে। শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে॥১১॥ | সঞ্জীবনী এনে লক্ষণকে বাঁচিয়েছ; শ্রীরঘুবীর হর্ষে তোমাকে বক্ষে ধারণ করেছেন। |
| রঘুপতি কীন্হী বহুত বদায়ী। তুম মম প্রিয ভরত সম ভায়ি॥১২॥ | রঘুপতি তোমার বহু প্রশংসা করেছেন; তুমি ভরতের মতোই আমার প্রিয় ভাই। |
| সহস্র বদন তুম্হরো য়শগাবৈ। অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈ॥১৩॥ | সহস্র মুখ তোমার যশ গায়; এই বলে শ্রীপতি তোমাকে আলিঙ্গন করেন। |
| সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা। নারদ শারদ সহিত অহীশা॥১৪॥ | সনক, ব্রহ্মা, নারদ, শারদা ও শেষনাগ — সবাই তোমার গুণগান করেন। |
| য়ম কুবের দিগপাল জহাং তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে॥১৫॥ | যম, কুবের, দিকপাল, কবি-পণ্ডিত — কেউ তোমার মহিমা পূর্ণ বর্ণনা করতে পারে না। |
| তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা। রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা॥১৬॥ | তুমি সুগ্রীবের মহা উপকার করেছ; রামের সাথে মিলিয়ে রাজপদ দিয়েছ। |
| তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা। লংকেশ্বর ভয় সব জগ জানা॥১৭॥ | তোমার মন্ত্র বিভীষণ মেনেছে; লঙ্কেশ্বরের ভয় সব জগৎ জানে। |
| য়ুগ সহস্র য়োজন পর ভানূ। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥১৮॥ | সহস্র যোজন দূরের সূর্যকে মিষ্টি ফল ভেবে গিলে ফেলেছ। |
| প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী। জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী॥১৯॥ | প্রভুর মুদ্রিকা মুখে নিয়ে নির্দ্বিধায় সাগর পার হয়েছ। |
| দুর্গম কাজ জগত কে জেতে। সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে॥২০॥ | জগতের দুর্গম কাজও তোমার অনুগ্রহে সহজ হয়ে যায়। |
| রাম দুয়ারে তুম রখবারে। হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥২১॥ | রামের দ্বারে তুমি রক্ষক; তোমার অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারে না। |
| সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা। তুম রক্ষক কাহূ কো ডরনা॥২২॥ | তোমার শরণে সব সুখ মেলে; তুমি রক্ষক হলে কার ভয়? |
| আপন তেজ সম্হারো আপৈ। তিনোং লোক হাংক তে কাংপৈ॥২৩॥ | নিজের তেজ তুমি নিজেই সংহরণ করো; তোমার হুঙ্কারে ত্রিলোক কাঁপে। |
| ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥২৪॥ | ভূত-পিশাচ কাছে আসে না; যখন মহাবীরের নাম শোনা যায়। |
| নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরন্তর হনুমত বীরা॥২৫॥ | রোগ নাশ হয়, সব পীড়া দূর হয়; নিরন্তর হনুমান বীরের জপে। |
| সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥২৬॥ | সংকট থেকে হনুমান উদ্ধার করেন; মন-কর্ম-বচনে যিনি তাঁকে ধ্যান করেন। |
| সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিনকে কাজ সকল তুম সাজা॥২৭॥ | সকলের পরম রাম তপস্বী রাজা; তাঁর সব কাজ তুমিই সম্পন্ন করো। |
| ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ। সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ॥২৮॥ | যে অন্য মনোরথ নিয়ে আসে, সে অমিত জীবন-ফল পায়। |
| চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা। হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা॥২৯॥ | চার যুগে তোমার প্রতাপ জগতে প্রসিদ্ধ ও উজ্জ্বল। |
| সাধু সন্ত কে তুম রখবারে। অসুর নিকংদন রাম দুলারে॥৩০॥ | সাধু-সন্তের রক্ষক তুমি; অসুর-সংহারক রামের প্রিয়তম। |
| অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা। অস বর দীন্ জানকী মাতা॥৩১॥ | অষ্টসিদ্ধি ও নবনিধির দাতা; এই বর দিয়েছেন জানকী মাতা। |
| রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা। সদা রহো রঘুপতি কে দাসা॥৩২॥ | রাম-রসায়ন তোমার কাছে; সর্বদা রঘুপতির দাস হয়ে থাকো। |
| তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ। জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥৩৩॥ | তোমার ভজনে রামকে পাওয়া যায়; জন্ম-জন্মের দুঃখ ভুলে যায়। |
| অন্ত কাল রঘুপতি পুরযায়ী। জহান জনম হরিভক্ত কহায়ী॥৩৪॥ | অন্তকালে রঘুপতি নিজধামে নেন; যে জন্মে হরিভক্ত বলে পরিচিত। |
| ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে। হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে॥৩৫॥ | অন্য দেবতায় চিত্ত না রাখলেও; হনুমানের সেবায় সর্বসুখ হয়। |
| সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা। জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা॥৩৬॥ | সংকট কাটে, সব পীড়া মিটে; যে স্মরণ করে বলবীর হনুমানকে। |
| জয় জয় জয় হনুমান গোসায়ী। কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী॥৩৭॥ | জয় জয় জয় হনুমান গোস্বামী; গুরুর মতো আমাদের কৃপা করো। |
| যো শত বার পাঠ কর কোয়ী। ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী॥৩৮॥ | যে শতবার পাঠ করে; বন্ধন মুক্ত হয়, মহাসুখ লাভ করে। |
| জো য়াহ পড়ে হনুমান চালীসা। হোয়ে সিদ্ধি সাখী গৌরীশা॥৩৯॥ | যে এই হনুমান চালিসা পড়ে; সিদ্ধি হয়, গৌরীশ (শিব) সাক্ষী। |
| তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা॥৪০॥ | তুলসীদাস সদা হরির দাস; হে নাথ, হৃদয়ে তুমি ডেরা বাঁধো। |
কথিত আছে, ষোড়শ শতাব্দীতে গোস্বামী তুলসীদাস কাশীতে রামায়ণ রচনা করছিলেন। মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে তাঁকে বন্দি করা হলে কারাগারেই তিনি ৪০ দিনে ৪০টি চৌপাঈ রচনা করেন — যাকে আমরা আজ হনুমান চালিসা নামে জানি।
কথিত আছে, তাঁর ভক্তির ফলে বন্দিদশা ভেঙে যায় এবং সম্রাট স্বয়ং মুক্তিদান করেন। এই ৪০টি শ্লোক আজও ভক্তদের কাছে সংকটমোচন, ভয়নাশক ও শক্তিদায়ক স্তোত্র হিসেবে পূজিত। প্রতিটি চৌপাঈয়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে তুলসীদাসের গভীর আত্মসমর্পণ ও বজরংবলীর প্রতি অটল বিশ্বাস।
হনুমান চালিসা পাঠের কোনো কঠোর বিধি নেই — ভক্তি ও একাগ্রতাই প্রধান। তবুও কিছু বিষয় মেনে চললে পাঠ আরও ফলপ্রসূ হয়:
যাঁরা বিশেষ সংকটে আছেন, তাঁরা ৭ বার বা ১০০ বার পাঠের সংকল্প করতে পারেন — শাস্ত্রমতে এতে দ্রুত ফল লাভ হয়।
এই ৪০টি শ্লোক আজও প্রাসঙ্গিক — কারণ ভয়, দ্বিধা ও নেতিবাচকতা কখনো যুগ বদলায় না। নিয়মিত পাঠের কিছু বাস্তব উপকার:
Reflectu.in-এ সম্পূর্ণ হনুমান চালিসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করুন। উপরের 📥 PDF / প্রিন্ট বোতামে ক্লিক করলেই আপনার ব্রাউজার থেকে সরাসরি প্রিন্ট বা PDF সেভ করা যাবে — কোনো লগইন, কোনো সাবস্ক্রিপশন নেই।